বিদেশি কূটনীতিকদের রাজনীতিতে জড়ানোর সংস্কৃতির অবসান কবে হবে

  • Author, রাকিব হাসনাত
  • Role, Broadcast Journalist
  • Reporting from বিবিসি বাংলা, ঢাকা।
শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া
ছবির ক্যাপশান,

শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া

বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টাপাল্টি তৎপরতা এবং একই সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে নানা ধরণের মন্তব্য করে আলোচনায় আসছেন বিদেশি কূটনীতিকরাও।

ইতোমধ্যে ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে ঢাকায় জাপানের রাষ্ট্রদূতের এক বক্তব্য নিয়ে তোলপাড় ঘটে গেছে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে।

ওই বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত গত নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তির প্রসঙ্গটি এনেছিলেন।

বিরোধী দল বিএনপি বরাবরই অভিযোগ করছে যে গত নির্বাচনের আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রেখেছিলো ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

এ অভিযোগ আওয়ামী লীগ ও নির্বাচন কমিশন সবসময়ই প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

তবে শুধু গত নির্বাচনই নয় বরং বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক সংকট এলেই তৎপর হতে দেখা যায় বিদেশি কূটনীতিকদের।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন বলছেন রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনা করে সমস্যা সমাধানে অদক্ষতা কিংবা অনাগ্রহ এবং দেশে নির্বাচন নিয়ে সংকটের কারণেই বিদেশি কূটনীতিকরা কথা বলার সুযোগ পায়।

“যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হচ্ছিলো এবং সেই নির্বাচনগুলো গ্রহণযোগ্য হচ্ছিলো তখন কিন্তু বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের এমন মন্তব্য করতে দেখা যায়নি। যেহেতু আমরা একটা সঠিক নির্বাচন ব্যবস্থা আমরা দেশে প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি সে কারণে এটা তাদের জন্য সুযোগ তৈরি করেছে। আমার অনুমান এ সুযোগ থেকেও যাবে"।

তার মতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি আমলের মধ্যে কোন তফাত এক্ষেত্রে কিন্তু হয়নি। বরং কূটনীতিকদের বক্তব্য যখন যার পক্ষে গেছে সে সমর্থন করেছে।

"এটাই চলছে গত ত্রিশ বছর ধরে। নব্বইয়ের দশক থেকে এটা শুরু হয়েছে।গণতন্ত্রে ইনক্লুসিভনেসটা আমাদের এখানে আসলে কখনো আসেনি”।

অথচ উনিশশো নব্বইয়ের আগে দীর্ঘদিন দেশে সামরিক শাসন ছিলো এবং সে সময়কার নির্বাচনগুলো নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন ছিলো রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে।

কয়েকটি নির্বাচন প্রধান দলগুলো বর্জন করেছে। এরপর জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পতনের পর একানব্বইয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রশংসিত হলেও কয়েক বছরের মধ্যেই নির্বাচন নিয়ে সংকট তৈরি হয়।

যার ফলশ্রুতিতে রাজনৈতিক সংকট দেখা দিলে শুরু হয় বিদেশিদের নাক গলানোর সুযোগ। আর তাতে সায় ছিলো ক্ষমতার বাইরে রাজনৈতিক দলগুলোর।

বাস্তবতা হলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে পঁচাত্তর সালে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন, পরবর্তীতে একাধিক সামরিক শাসন, ১৯৯০ সালে রাজনৈতিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জেনারেল এরশাদের পতন, এমনকি ১৯৯১ সালে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা পাওয়ার পরেও প্রতিটি রাজনৈতিক সঙ্কটে এবং কম বেশি সব নির্বাচনকে ঘিরে প্রকাশ্যে কিংবা অপ্রকাশ্যে বিদেশিদের তৎপরতা আলোচনায় এসেছে।

অনেক ক্ষেত্রে কোন কোন দল বা দলীয় নেতাকেও বিদেশি রাষ্ট্র যেমন চীনপন্থি কিংবা রাশিয়াপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

একানব্বইয়ে গণতন্ত্র ফিরলেও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে শক্তিশালী করা হয়নি

ফলে বাংলাদেশেও এসব দেশগুলোর প্রতিনিধি হিসেবে কূটনৈতিক দায়িত্ব নিয়ে যারা আসেন তারা শেষ পর্যন্ত আর শুধু এই দায়িত্বেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখেন না।

দেশের রাজনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে অনেক ক্ষেত্রেই তারা সক্রিয় হয়ে পড়েন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইস্যুতে। যেমনটি বলছিলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবাইদা নাসরিন।

“মুক্তিযুদ্ধের পর বিরোধী দল হিসেবে জাসদ গঠন, পনেরই অগাস্টের ঘটনা এবং এর ধারাবাহিকভাবে যত ঘটনা ঘটেছে সব কিছুর সাথেই তো নানা বিদেশি রাষ্ট্রের ঢাকায় কর্মরত প্রতিনিধিদের ভূমিকা সম্পর্কে নানা তথ্য উঠে আসছে। ভবিষ্যতে হয়তো আরও আসবে। একানব্বই সালে গণতন্ত্র ফিরে এলেও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে শক্তিশালী করা হয়নি। ফলে সংকট যেমন অনিবার্য হয়ে ওঠে তেমনি সংকটের পথ ধরে বিদেশীদের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়। আর আমাদের দলগুলো নিজেরাই এ সুযোগ তৈরি করে দেয়। আবার যেসব দেশ অনেক বেশি সহায়তা দেয় তারা কোনো ইস্যুতে কথা বলার সুযোগও সেজন্য বেশী পায়”।

আবার ক্ষমতাসীন দলের রাষ্ট্রীয় নীতি অনেক সময় সেই দলের সাথে কোনো একটি দেশের বিশেষ সখ্যতার দিক তুলে ধরে।

যেমন এখনকার অন্যতম প্রধান বিরোধী দল বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিলো তখন তারা 'লুক ইস্ট পলিসি' নিয়েছিলো।

সেখানে চীনের উপর তাদের নির্ভরতা বেশি প্রকাশ পেয়েছিলো বলে অনেকে মনে করেন। আবার বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালের পর থেকে একচেটিয়াভাবে ভারতের সমর্থন পাচ্ছে বলে প্রচলিত আছে।

এবং ঢাকায় এসব দেশের প্রতিনিধিরে বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডও রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রায়শই আলোচনায় আসে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

দুই হাজার সাত সালে ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রেসিয়া বিউটেনিস, ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী এবং জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি রেনাটা লক ডেসালিয়ান

বিদেশি কূটনীতিকদের এমন তৎপরতা আর কোথাও দেখা যায়?

কিন্তু বিদেশি কূটনীতিকরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ইস্যুতে যতটা জড়ায় সেটা কি আর কোথাও দেখা যায়?

এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন বলছেন গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের মতো ইস্যুগুলোতে সুযোগ থাকলে কথা সবাই বলবে এবং এসব কারণেই বিদেশি কূটনীতিকদের রাজনৈতিক ইস্যুতে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না বাংলাদেশ।

“আমাদের এখানে এরা যখন ইন্টারফেয়ার করেন তখন যারা ক্ষমতায় থাকে তারা চায় না সেটা। এমনকি তারা যদি নিয়মের ব্যত্যয় ঘটায় তাহলেও তারা চাইবেনা কেউ কথা বলুক। কিন্তু যে দল বিরোধী থাকে তারা এটাকে পছন্দ করে ও উৎসাহিত করে। যেহেতু সুস্থ নির্বাচন ব্যবস্থা এখানে শেকড় গাড়তে পারেনি”।

মি. হোসেন বলছেন প্রতিবেশী ভারতের কখনোই বিদেশিরা এ সুযোগ পায়না কারণ সেখানে নির্বাচন ব্যবস্থা শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, যা বাংলাদেশে হয়নি।

দুই হাজার ছয় সালের শেষ দিকে এবং ২০০৭ সালের প্রথম দিকে ঢাকায় নিযুক্ত পশ্চিমা দেশের কিছু কূটনৈতিক ছিলেন বেশ তৎপর।

উইকিলিকসে প্রকাশিত মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রেসিয়া বিউটেনিসের গোপন তারবার্তা থেকে জানা যায়, ঢাকাস্থ পশ্চিমা কূটনীতিকরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য নিজেদের মধ্যে নিয়মিত বৈঠক করতেন। যার নাম দেয়া হয়েছিল 'কফি গ্রুপ'।

এর সাথে সম্পৃক্ত ছিল আমেরিকা, ব্রিটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি এবং জাতিসংঘের প্রতিনিধি। এই গ্রুপে জাপানকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

দুই হাজার সাত সালের চৌঠা জুন দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানা যায়, খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনার সাথে বৈঠকে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রেসিয়া বিউটেনিস বলেছিলেন, পরিস্থিতির অবনতি হলে সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করতে পারে।

তবে রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় থাকলে বরাবরই বিরোধী দলগুলোকে দেখা যায় নানা ঘটনায় তাদের দ্বারস্থ হতে।

আবার এসব দলই আবার ক্ষমতায় গেলে কূটনীতিকদের সবসময় কূটনৈতিক শিষ্টাচার মেনে চলার পরামর্শ দিয়ে থাকে।

ছবির ক্যাপশান,

২০২০ সালের সিটি নির্বাচনের আগে কুটনীতিকদের যৌথ বিবৃতি

'কূটনীতিকদের কাছে দলগুলোর ধর্ণা দেয়ার উদাহরণও আছে'

গবেষক ও বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমেদ বলছেন ঢাকায় কূটনীতিকদের কাছে দলগুলোর ধর্ণা দেয়ার উদাহরণও আছে।

“এক এগারোর আগে আমাদের দলের নেতারা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে গিয়ে ধর্ণা দিয়েছিলো। এগুলো গোপনে করলেও উইকিলিকসের রিপোর্টে ফাঁস হয়ে গেছে। এখন তারা অস্বস্তি বোধ করে কোনো রাষ্ট্রদূত নেতিবাচক মন্তব্য করলে। কেউ যদি বলে বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রোল মডেল হয়েছে সেটা কিন্তু ফলাও করে প্রচার করেছ কিন্তু অ্যামনেস্টি বা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বক্তব্যে তারা ক্ষুব্ধ হয়। তাই বলা হয় বিদেশিদের নাক গলানো সমস্যা নয়। বরং পক্ষে গেলে ভালো, বিপক্ষে হলে খারাপ-এই হলো বিষয়”।

তবে ভালো খারাপ যাই হোক তুমুল রাজনৈতিক সংকটের জের ধরে বিদেশি কূটনীতিকদের আনুষ্ঠানিক মধ্যস্থতার ইতিহাসও আছে বাংলাদেশে।

উনিশশো ছিয়ানব্বই সালের নির্বাচনের আগে ঢাকায় এসেছিলেন তখনকার কমনওয়েলথ মহাসচিবের বিশেষ দূত স্যার নিনিয়ান স্টেফান।

পরে ২০১৩ সালে জাতিসংঘ মহাসচিবের দূত হয়ে ঢাকায় এসে দু পক্ষকে এক জায়গায় আনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিলেন অস্কার ফার্নান্দেজ-তারানকো। পরে ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করেছিলো বিএনপি।

আবার ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগেও নানা ধরণের তৎপরতায় সম্পৃক্ত হয়েছিলেন বিদেশি কূটনীতিকদের অনেকে। এর মধ্যে ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ঢাকায় এসে ব্যস্ত সময় পার করেছিলেন ভারতের তখনকার পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং।

বিরোধী দলগুলোকে কেন বিদেশি কূটনীতিকদের দ্বারস্থ হয়

কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল বিশেষ করে বিরোধী দলগুলোকে কেন বিদেশি কূটনীতিকদের দ্বারস্থ হতে হয় এমন প্রশ্নের উত্তরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিবিসি বাংলাকে বলছেন যে, বাংলাদেশ তো বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন নয় এবং সে কারণেই গণতন্ত্রের সমস্যা হলে গণতান্ত্রিক বিশ্ব কথা বলে।

“যখন একটা দল জোর করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে রাখে এবং একদলীয় শাসন ব্যবস্থার দিকে নিয়ে যেতে চায়, জনগণের সব গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে চায়। তখন অতীতেও দেখেছি যখনি গণতন্ত্র হরণ হয়েছে তখনি গণতান্ত্রিক বিশ্ব কথা বলে। অর্থাৎ এখানে একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা তারা দেখতে চায়। আমরাও দেখতে চাই ও আমরা সংগ্রাম করেছি। সেজন্য যারাই গণতন্ত্র দেখতে চায় তাদের আমরা স্বাগত জানাই”।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বিরোধী দলে থাকলে তাদের নেতারা কূটনৈতিকদের সাথে বৈঠক করে বেরিয়ে গণমাধ্যমের কাছে রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনার হয়েছে এমন মন্তব্য করার অসংখ্য উদাহরণও আছে।

কূটনীতিকরাও গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে নির্বাচন নিয়ে প্রকাশ্যেই মন্তব্য করে থাকেন যাকে অনেকে সরকারি দলের ওপর চাপ বলে মনে করে।

কিন্তু বিরোধী দলগুলোর অনুরোধে কূটনীতিকরা আদৌ কোনো চাপ সরকারি দলের ওপর তৈরি করে কি-না সে প্রশ্নের কোনো জবাব মিস্টার আলমগীর দেননি।

শিষ্টাচারের কথা বলে সরকারি দল

বর্তমান সরকারি দল আওয়ামী লীগ এখন কূটনীতিকদের রাজনীতি বা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বক্তব্য বা মন্তব্যে অসন্তুষ্ট হলেও দলটি যখন বিরোধী দলে ছিলো তখন তারাও নানা ইস্যুতে কূটনীতিকদের সাথে বৈঠক করেছে বা ব্রিফিং করেছে নিয়মিতই।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শাজাহান খান বিবিসিকে বলেছেন যে, আওয়ামী লীগ নেতারা বিদেশিদের সাথে যে সাক্ষাৎ করেছেন বা করেন সেগুলোই নিতান্তই সৌজন্য সাক্ষাৎ, তারা রাজনৈতিক ইস্যুতে হস্তক্ষেপের কোন তদবির কখনো করেনি।

এখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন তার বক্তব্যে কূটনীতিকদের শিষ্টাচারের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

একইসঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীরা কেন বিদেশিদের কাছে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করে তা নিয়েও উষ্মা প্রকাশ করছেন সরকারি দলের নেতারা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলছেন, “যারা এদেশে রাষ্ট্রদূত আছেন তারা কোড অব কন্ডাক্ট সম্পর্কে জানেন। সে অনুযায়ী তারা চলবেন। তবে দুঃখের বিষয় বিভিন্ন লোকজন অভ্যন্তরীন বিষয় নিয়ে বিদেশিদের মতামত চান। যদিও তারা আমাদের অতিথি। দেশ সম্পর্কে বাংলাদেশীদের চেয়ে তাদের জ্ঞান কম আছে। তারপরেও উনাদের কাছে যাচ্ছেন। এ কালচার পরিবর্তন করা দরকার”।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বিদেশি কূটনীতিকদের তৎপরতা সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা ক্ষমতাসীন দলের নেতারা যাই বলুন বিশ্লেষকরা মনে করছেন সামনের নির্বাচন কীভাবে হবে এবং সে নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণের বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলো আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে না পারলে আরও বাড়বে বিদেশীদের কূটনীতিকদের তৎপরতা।

ফলে বাংলাদেশে রাজনীতিতে বিদেশি বিশেষ করে পশ্চিমা কূটনীতিকদের জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতি থেকে আপাতত বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।