রিচার্লিসন কেন ব্রাজিলের সোনার ছেলে

  • Author, ফিল ম্যাকনাল্টি
  • Role, বিবিসি স্পোর্ট, লুসাইল স্টেডিয়াম থেকে
সার্বিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় পেয়েছে ব্রাজিল

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

সার্বিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় পেয়েছে ব্রাজিল

রিচার্লিসনকে হয়তো অন্যদের কাছে ব্রাজিলের নয় নম্বর জার্সি পরার যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে হতো, কিন্তু বিশ্বকাপে নিজের অভিষেকে তিনি যা খেলেছেন সেটিই বলে দিচ্ছে যে কোচ তিতে কেন বিশ্বকাপের মঞ্চে তার ওপরেই আস্থা রেখেছেন।

কাতার বিশ্বকাপের এই দলে সুযোগ পেতে আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল হেসুস ও রেয়াল মাদ্রিদের রদ্রিয়াগোর সাথে টটেন্যামের এই স্ট্রাইকারকেও নিজের জায়গা নিশ্চিত করতে তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়েই আসতে হয়েছে। লিভারপুলের রবার্তো ফিরমিনো অবশ্য সেটি পারেননি।

এমন একটা স্কোয়াড যেখানে আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়ে পরিপূর্ণ, সেখানে তিতে স্ট্রাইকার হিসেবে রিচার্লিসনকেই প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেয়া ছিলো নেইমার ও ভিনিসিয়াস জুনিয়রের জন্য উপহারস্বরূপ এবং এটিই টুর্নামেন্ট ফেভারিটদের লুসাইল স্টেডিয়ামে সার্বিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ের ক্ষেত্রে এগিয়ে দিলো।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

রিচার্লিসনকে ঘিরে উল্লাস।

সার্বিয়ার জমাট ডিফেন্সের সামনে ব্রাজিলের একের পর এক ব্যর্থতার হতাশা দূর করেছেন রিচার্লিসন, ভিনিসিয়াসের শট ঠেকান ভাঞ্জা মিলিনকোভিচ-সাভিচ কিন্তু বল সোজা রিচার্লিসনের পায়ে যায় সেখান থেকে জালে।

এরপর আসে সত্যিকারের জাদুকরী মুহূর্ত, একটা দক্ষতা, যা ব্রাজিলের বহু বছর ধরে চলে আসা ফুটবল ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

তার আশেপাশে অনেক মেধাবী স্ট্রাইকার আছে কিন্তু তিনি একজন পরিপূর্ণ স্ট্রাইকার, বিশেষ করে তিনি যখন খেলার চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকেন। একদিকে প্রাণান্তকর চেষ্টা আর অন্যদিকে তার পায়ের অপূর্ব দক্ষতা।

এভারটন থেকে ৬ কোটি পাউন্ডে টটেন্যাম হটস্পার যাওয়ার পর রিচার্লিসনকে ক্যারিয়ার নতুন করে শুরু করতে হয়েছে ইনজুরির কারণে।

এই পারফরম্যান্স প্রমাণ দেয়, তিনি ব্রাজিলের জন্য কী মূল্যবান সম্পদ হতে যাচ্ছেন, এমনকি ক্লাবের জন্যও।

ইংল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার অ্যালান শিয়েরার বিবিসি স্পোর্টসকে বলেন, "রিচার্লিসন হলুদ জার্সি গায়ে ফর্মে আছেন, তিনি প্রিমিয়ার লিগে টটেন্যামের হয়ে এখনো গোল করতে পারেননি, তবে ব্রাজিলের হয়ে তিনি দুর্দান্ত ফর্মে আছেন।"

"রিচার্লিসন এমন সব গোল করবে যা দেখতে সুন্দর না, কিপারের ভুল থেকেও সুবিধা নেবেন ছয় গজের বক্সে, এটাও আমাকে তার দ্বিতীয় গোলের মতোই তৃপ্তি দিয়েছে,” বলছিলেন তিনি।

তার ম্যাচ উইনিং ডিসপ্লে ব্রাজিলের শক্তি ও অল রাউন্ড সক্ষমতার একটি প্রমাণ যা তাদের বিশ্বকাপের ফেভারিট দলে পরিণত করেছে।

রিচার্লিসনের প্রতিটি গোলের সাথেই উল্লাসে মেতে উঠেছিল গ্যালারিতে থাকা ব্রাজিল সমর্থেকরা। আর তার সতীর্থরাও কর্নার ফ্ল্যাগের দিকে দৌড়ে গিয়ে তাকে ঘিরে ধরছিলেন।

ম্যাচের শুরুতে যখন নেইমার স্টেডিয়ামে ঢুকছিলেন তখন তার কানে শোভা পাচ্ছিলো সোনালী রংয়ের একটি হেডফোন। কাতারে নেইমারের সময়ও আসবে- তবে গতরাতে ব্রাজিলের আসল সোনার ছেলে হিসেবে উঠে এসেছেন রিচার্লিসন।